About Us

সরকারি এম এম আলী কলেজ

আদিম গুহাবাসী বর্বর মানুষকে অন্ধকার অমানিশা থেকে আলো, সত্যসুন্দর ও সফল জীবনের সন্ধান দিয়েছে শিক্ষা। শিক্ষার লক্ষ্যভেদী সুনির্মল পরম মানুষের অন্তর্নিহিত সুপ্ত চেতনাকে জাগ্রত, উৎসাহিত করে তার চিন্তাভাবনা, ধ্যানজ্ঞান এবং কর্মপ্রয়াসকে আধুনিকতামুখী, কল্যাণকামী ও নান্দনিকতায় অভিষিক্ত করেছে। তাই ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবনের শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সুষ্ঠু ও অবারিত জ্ঞানচর্চা তথা সার্বিক শিক্ষার দার রেখে কোন দেশ ও জাতি কখনো উন্নতির শিখরে পৌছাতে পারে না। পরিশীলিত সমাজ দেশ নির্ভর শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ সত্যটি গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন গণমানুষের অকুতোভয় নেতা মরহুম আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। ১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনেউত্তরকালে নতুন করে উপলব্ধি করলেন হতদরিদ্র দেশবাসী ভাগ্যের গুণগত পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার প্রয়োজন। সেই মোতাবেক তার রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু খেলাফত আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মওলানা মুহাম্মদ আলীর নামে আধ্যাত্মিক পুরুষ হরযত পীর শাহজাহানের পূর্ণস্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক কাগমারির নিবৃত্ত পল্লীতে প্রতিষ্ঠা করেন মৌলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ। শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সবুজ বৃক্ষরাজির সুশীতল ছায়াঘেরা শান্ত শান্তস্নিগ্ধ পরিবেশের অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের নাম ও খ্যাতি মজলুম জননেতার নামে মতো ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দলে দলে শিক্ষা নিতে আসে এই বিদ্যাপীঠ। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালে ১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রবাদপুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজটিকে জাতীয়করণ করেন। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে এর গুরুত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে মহিমামণ্ডিত অর্ধশতক অতিক্রম করেছে। এসময়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মেধা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে দেশ সেবায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। কলেজটি শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ ও অনুকরণীয় ফলাফল অর্জনের জন্য বহুবার জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করেছেন; অধিকন্তু কলেজের অধ্যক্ষ এবং একাধিক শিক্ষক শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেন। কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা কারণে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তথা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ টি সম্মান বিষয়ে পাঠদান করা হয়। ২ বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চলমান, আরও টি বিষয়ে মাস্টার্স চালু প্রক্রিয়া দিন। কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের বিপুল সংস্কার সাধনপুর শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগ আরো সুদৃঢ় করা হয়েছে প্রশাসনিক কাজে অধিকতর গতিবেগ এবং শিক্ষার্থীদের পরিবহনের স্বার্থে ১ মাইক্রোবাস ও বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাঠ্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক গুণাবলী বিকাশ ও সুস্বাস্থ্যের জন্য রোভার স্কাউট, রেডক্রিসেন্ট, এবং বিএনসিসিকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করা হয়েছে নিয়মিত খেলাধূলা, বার্ষিকক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সফর, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান যথাযথভাবে সম্প্রদানের পাশাপাশি জাতীয় অনুষ্ঠানসমূহ জাতীয় দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বর্ষবরণ, জাতির জনকের জন্ম ও শাহাদাতবার্ষিকী, নজরুলরবীন্দ্র জয়ন্তী, বিজয় দিবস উদযাপন ইত্যাদি সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক গুণাবলী বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগ্য নাগরিক ও সঠিক নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বরাবরই অনুকরণীয়। কলেজে সুবিধা কলেজের সুব্যবস্থা খেলার মাঠ, শহীদ মিনার, অজস্র আমকাঁঠাল মেহেগুনি, সেগুনের সবুজ পত্রপল্লব ছায়া সুশীতল নয়নাভিরাম পরিবেশ আবালবৃদ্ধনজর ও মন কারে তাই দেশের ভবিষ্যৎ দেশ প্রেমিক ও আদর্শ নাগরিক তৈরীর ক্ষেত্রে এ কলেজের প্রচেষ্টা বাটা পড়বে না কখনো, বরং সাগরের অভিমুখে দিয়ে চলা অশান্ত নদীর বাধা বাংলা জোয়ারের মত বহমান রবে অবিরত।